• বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৯ ১৪৩০

  • || ১১ শা'বান ১৪৪৫

আজকের সাতক্ষীরা

খাদ্যশস্য মজুদ ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশ

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৪  

খাদ্যশস্য নিয়মবহির্ভূতভাবে যাতে কেউ মজুদ করতে না পারে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারদের সমন্বয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো: মাহবুব হোসেন এই নির্দেশনা দেন। নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে খাদ্যমজুদ পরিস্থিতি, বাজার মনিটরিং এবং টিসিবি পণ্য বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনা শেষে এই নির্দেশ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ সংক্রান্ত আলোচনায় আরো বলা হয়, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজার মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে। টিসিবির পণ্যের বিতরণকার্যক্রম যথাযথ এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

সভায় বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগ এবং মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এক হাজার ৬৫৯টি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ২৩৮টি হ্রাস পেয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনাররা জানান, কিছু রাজনৈতিক দলের হরতাল/অবরোধ কর্মসূচিতে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, যেমন- রাস্তায় টায়ার জ্বালানো, বাস-ট্রাকে অগ্নিসংযোগ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ছাড়াও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকগণের মধ্যে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ব্যতীত সব বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেষ্ট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ৭০১টি টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে জেলা টাস্কফোর্স পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী অভিযান ৬৪টি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসকদের চোরাচালানবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছে দেয়া হয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অভিযান জোরদার করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণকে নির্দেশনা দিতে বিভাগীয় কমিশনারদের বলা হয়।
গত ডিসেম্বর মাসে পাঁচ হাজার ৭০৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে এবং ১১ হাজার ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নভেম্বর মাসের তুলনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সংখ্যা এক হাজার ৭৬০টি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মামলার সংখ্যা চার হাজার ১৭০টি বৃদ্ধি পেয়েছে। যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক প্রয়োগসিদ্ধভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখা এবং মোবাইল কোর্টের তথ্য ই-কোর্ট সিস্টেমে প্রত্যেক মাসের ৫ তারিখের মধ্যে আবশ্যিকভাবে আপলোড করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণকে নির্দেশনা দিতে বলা হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এর আওতায় দায়েরকৃত মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। ডিসেম্বর মাসে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয় হাজার ১৭০টি মামলা রজু হয়েছে এবং সাত হাজার ৯৯৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে অনিষ্পন্ন পুঞ্জীভূত মামলার সংখ্যা ৩৪ হাজার ৯০৪টি।
নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৮৮২টি হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে পাঁচ হাজার ৭৭১টি মামলা রজু হয়েছে এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ছয় হাজার ১৯০টি। বর্তমানে অনিষ্পন্ন পুঞ্জীভূত মামলার সংখ্যা ৪০ হাজার ৯৬৯টি।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর আওতায় ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়েরকৃত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো ১৫৬টি এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৩৪ মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব মামলা অতিদ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয়া হয়।

ডিসেম্বর মাসে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টের দু’টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দু’টি মামলার এক জনকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং একজনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে মোবাইল কোর্টের অভিযান ২৯টি হ্রাস পেয়েছে, মামলার সংখ্যা ২৪টি হ্রাস পেয়েছে। অর্থদণ্ডে দণ্ডিত আসামির সংখ্যা ২০ জন হ্রাস পেয়েছে। কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামির সংখ্যা তিনজন হ্রাস পেয়েছে। অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড উভয়দণ্ডে দণ্ডিত আসামির সংখ্যা একজন হ্রাস পেয়েছে এবং আদায়কৃত জরিমানার পরিমাণ ২৮ হাজার টাকা হ্রাস পেয়েছে। এজন্য যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।

সভায় বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডিসেম্বর মাসে পাঁচটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ২৬টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এই সময়ে ১৮২টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

বর্তমানে ৫০টি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে এক মাসের ঊর্ধ্বে ঢাকা বিভাগে চারটি করে, চট্টগ্রাম বিভাগে ছয়টি, রাজশাহী বিভাগে একটি, খুলনা বিভাগে দু’টি, বরিশাল বিভাগে চারটি, রংপুরে বিভাগে তিনটি করে মোট ২০টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
তিন মাসের ঊর্ধ্বে ঢাকা বিভাগে একটি, চট্টগ্রাম বিভাগে চারটি করে, রাজশাহী বিভাগে তিনটি, খুলনা তিনটি করে, বরিশাল বিভাগে ১২টি করে, সিলেট বিভাগে একটি, রংপুর বিভাগে দু’টি করে, মোট ২৬টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন রয়েছে। তিন মাসের ঊর্ধ্বে অনিষ্পন্ন অভিযোগের প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দ্রুত প্রেরণের নির্দেশনা দেয়া হয়।
ডিসেম্বর মাসে ভূমি অধিগ্রহণে পাঁচ হাজার ৮১৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে মামলার সংখ্যা ৩৯টি বৃদ্ধি পেয়েছে। অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা দুই হাজার ৩২৭টি হ্রাস পেয়েছে। ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির আবেদন নিষ্পত্তির সংখ্যা ৫৩৭টি হ্রাস পেয়েছে। এই সংক্রান্ত কাজে জনগণ যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা এবং অধিগ্রহণ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা