• রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

আজকের সাতক্ষীরা

বাড়িটাই হবে আস্ত ব্যাটারি

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৪  

অদ্ভুত এক ভেল্কিবাজি দেখিয়ে দিলেন এমআইটির গবেষকরা। কংক্রিটের উপাদানগুলোকে একটু এদিক-সেদিক করে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত কেমব্রিজ শহর। সেখানকার এক পরীক্ষাগারে বেশ কিছু পালিশ করা কালো রঙের কংক্রিটের সিলিন্ডারকে এক ধরনের তরলে স্নান করানো হচ্ছে ক্রমাগত।

সে‌টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন তার। সাধারণ মানুষের চোখে এ দৃশ্যের খুব একটা গুরুত্ব নেই। কিন্তু ডেনিয়েল স্টেফানিউক একটি সুইচে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। কংক্রিটের ব্লকগুলোর সঙ্গে আগে থে‌কেই এলইডি বাতির সংযোগ দেওয়ার কারণে সুইচ টেপার সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে একটি বাতি।

আর এটিকেই তাঁরা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন বহুল ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারির বিকল্প হিসেবে।

 

কালো রঙের কংক্রিটপৃথিবীতে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। মূলত সূর্য বা সমুদ্র বায়ু থেকে আসে এই শক্তি। তবে সূর্যের আলো সব সময় একই রকম থাকে না, বায়ুপ্রবাহতেও মাঝেমধ্যে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

এমন সমস্যায় পড়লে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে বিদ্যুৎকে ব্যাটারির মধ্যে সঞ্চয় করতে হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের জন্য আমরা লিথিয়ামের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। আর এই লিথিয়ামের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল। বিশ্বে লিথিয়ামের খনি আছে মাত্র ১০১টি। একদিকে লিথিয়াম মাইনিং করার সময় অনেক  বিদ্যুৎ ও পানি খরচ হয়, অন্যদিকে লিথিয়াম উত্তোলন প্রক্রিয়ায় বিষাক্ত রাসায়নিকের দেখা মেলে, যা স্থানীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

লিথিয়ামের এসব পরিবেশগত ঝুঁকি ও অপ্রতুলতার কারণে ব্যাটারির জন্য বিকল্প উপাদান খোঁজা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। আর এ ক্ষেত্রে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে স্টেফানিউক ও তাঁর কংক্রিটের ব্লক। তিনি ও তাঁর এমআইটির সহকর্মীরা শক্তি সঞ্চয়ের এমন এক ‘সুপারক্যাপাসিটর’ ডিভাইস তৈরি করতে চলেছেন, যা একেবারে সাশ্রয়ী উপাদান পানি, সিমেন্ট ও ‘কার্বন ব্ল্যাক’ দিয়েই বানানো সম্ভব হবে। তবে সুপারক্যাপাসিটর বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ ও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির তুলনায় দ্রুত চার্জ হলেও যেসব ডিভাইসে দীর্ঘ সময়ের জন্য কিছুটা ধীরগতির বিদ্যুৎ প্রবাহ লাগে, সেসব ক্ষেত্রে এটি এখনো কাজে লাগানো যায়নি। খুব দ্রুত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার কারণে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এটি কাজে আসে না। 

 

এমআইটি এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ওয়াইস ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যালি ইনস্পায়ারড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্টেফানিউকের দল তাদের এই সুপারক্যাপাসিটরকে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। প্রথমত সৌরশক্তি সংরক্ষণ করে রাখতে পারে এমন একটি সড়ক তৈরির পরিকল্পনা তাদের। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো (ইভি) সহজে ওয়্যারলেস পদ্ধতিতে চার্জ করতে পারবে সড়কে সঞ্চিত শক্তি থেকেই। আরেকটি পরিকল্পনাতে শক্তি মজুদ করে রাখতে সক্ষম এ রকম বাড়ির ভিত (ফাউন্ডেশন) তৈরি করবে তারা। তবে তাদের গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আপাতত কংক্রিটের সুপারক্যাপাসিটর প্রতি ঘনমিটারে ৩০০ ওয়াট-ঘণ্টা শক্তি সংরক্ষণ করতে পারে। এ শক্তি দিয়ে ১০ ওয়াটের একটি এলইডি বাতি ৩০ ঘণ্টা জ্বালানো সম্ভব।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা