• বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৬ ১৪৩০

  • || ১৮ শা'বান ১৪৪৫

আজকের সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার মাঠে মাঠে আমন ধান রোপনের উৎস কৃষকের

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২৩  

সাতক্ষীরার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে রৌদ্রে পুড়ে কৃষকরা আমন ধান রোপন শুরু করেছে। বরো ধান কাটা, মাড়াই করার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়েছে আমন রোপন প্রস্তুতি এবং রোপন। জেলার কৃষকরা সপ্তাহ খানেক পূর্বেও বৃষ্টিহীনতা তথা আমন রোপনের জন্য কাঙ্খিত বৃষ্টিপাতের অভাব অনুভব করছিলেন আষাঢ়, শ্রাবনের দিন গুলোতে ও খরা কাটছিল না। গত চার পাঁচদিনে আমন রোপন উপযোগী বৃষ্টিপাতের কল্যানে কৃষকরা মনের আনন্দে, অবারিত আশার সঞ্চার ঘটিয়ে রোপন শুরু করেছে আমন ধানের চারা। ধান গাছ রোপনের পূর্বে বেশকিছু উপকরন সেই সাথে নিয়ম মানতে হয় তার মধ্যে উলে­খযোগ্য বীজতলা প্রস্তুত করা স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় পাতাফেলা, বীজতলা প্রস্তুত পরবর্তি উক্ত বীজতলায় ধান ছিটিয়ে রেখে কয়েকদিন পানি প্রবাহ ধরে রাখতে হয়, আবার সেচ পদ্ধতি ও অবলম্বন করা হয়। ছিটিয়ে রাখা ধান হতে ছোট ছোট চারা উৎপন্ন হলে উক্ত চারা তুলে কয়েকটির সমন্বয়ে রোপন করা হয়। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে ইরি বরো ধান চাষ অপেক্ষা আমন ধান চাষে খরচ যেমন কম অনুরুপ উৎপাদনে ও লাভে এগিয়ে, কৃষকরা আরও জানান আমন ধান আকাশের বৃষ্টির উপর বিশেষ ভাবে নির্ভরশীল। আর এ কারনে আমন চাষের উপর কৃষকদের আগ্রহ সর্বাধিক। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় আমন চাষের উপর ঝুকে পড়ার আরও কারন এই চাষ প্রাকৃতিক দূর্যোগ দুর্বিপাক হতে কিছুটা মুক্ত আষাঢ় মাস শেষে এবং শ্রাবন মাসের মধ্যে আমন ধান রোপন শুরু হয় ভাদ্র আশ্বিনের শরতের সমারোহে আবহাওয়া সহনশীল থাকে এবং সেই আবহাওয়া ধান গাছের বৃদ্ধিও ফলনে যথেষ্ট্য পরিমান সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় আমন ধান রোপনের রীতিমত উৎসব শুরু হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে শ্রমিক মুজুরী সেই সাথে এবং কোন কোন এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা সকালেই ক্ষেতে উপস্থিত হচ্ছে দিন শেষে রোপন করে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছে। খোজ নিয়ে জানাগেছে অনেকে আবার গাতার খেয়ে আমন রোপনে আসছে। গ্রাম্য ভাষায় তথা কৃষক কৃষানীর ভাষায় গাতার খাওয়া মাঠ সকাল নয়টা দশটার দিকে দুপুরের খাবার নিয়ে ক্ষেতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। আমন ধান রোপনের প্রধান উপকরন ধান পাতা, কৃষকরা জানান বর্তমান আমন মৌসুমে ধানপাতা তৈরীতে তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি, মাঝে মাঝে বৃষ্টির পানি বীজতলাকে সুসংহত তথা সজিব রেখেছিল। যে সকল কৃষক নিজেদের উদ্যোগে বীজতলা নির্মান সহ পাতা ফেলতে পারেনি তারা পাতা ক্রয় করে আমন চাষ করছে। এই ধান চাষের প্রধান উপজীব্য পানি এবং উক্ত পানি ধান গাছের গোড়ায় জমা থাকা ও জরুরী। সাজ সাজ রব আর নানান ধরনের হৈহুলে­ার এবং গানের ছন্দে কৃষকরা মনের সুখে আমন ধান রোপন করছে এ এক অভাবনীয় দৃশ্য, আর কয়েকদিন পরেই সবুজে সবুজে ভরে যাবে মাঠ, দোল খাবে ধান গাছ, ফির ফির করে বইছে বাতাস, স্নিগ্ধ, সুশোভিত মায়াবী সবুজ গাছে ধোড় হবে শিষ উঠবে, ফলবে সোনালী ধান। সাতক্ষীরার কৃষি দপ্তরকে বিশেষ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে, কৃষকদের অধিকতর উৎপাদনমুখি করতে হবে। পরামর্শ উঠান বৈঠক ও ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের ধানবীজ, সার বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে তা যথাযথ কাজে আসছে কিনা সেটাও তদারকি করতে হবে। প্রনোদনার ক্ষেত্র বিস্তৃত করতে হবে।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা