• রোববার   ০৩ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৯ ১৪২৯

  • || ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা পাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে সাংবাদিক লাঞ্চিত

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২  

সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়নে ৪৭৫ কোটি টাকায় ব্যয়ে জেলার পোল্ডার নং-১,২,৬-৮ এবং ৬-৮ (এক্সটেনশন) এর নিরসন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান বেতনা নদী খনন কাজের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে পাউবো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন। এসময় তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়।

রোববার (২২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়েরের নেতৃত্বে সিকিউরিটি গার্ডরা তার ওপর এ হামলা চালায়
মারপিটে আহত সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও দৈনিক সমাজের আলো নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজলপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে ইয়ারব হোসেনকে মারপিটের ঘটনা ফুসে উঠেছে সাতক্ষীরার কর্মরত সাংবাদিকরা। ঘটনার পরপরই একজন সাংবাদকিকে মারপিটের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শহরের ইটাগাছাস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে সাতক্ষীরা-কলিগঞ্জ সড়কে মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়।

প্রতক্ষ্যদর্শী মাসুম বিল্লাহ জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় চলমান বেদনা নদী খনন কাজের অগ্রগতি সর্ম্পকে খোঁজখবর নিতে সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। ইয়ারব হোসেন গাড়ি থেকে নেমে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের এর অফিস রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ পর অফিস রুমের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে নির্বাহী প্রকৌশলীর আবুল খায়ের রুম থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে সিকিউরিটি গার্ডদের কিছু একটা ইশারা করেন। পরে সিকিউরিটি গার্ডরা ছুটে এসে কোনো কারণ ছাড়াই লাঠি দিয়ে ইয়ারবকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন বলেন, ৪৭৫ কোটি টাকায় ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাচ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া বেতনা নদী খননকাজ চলছে। আমি এ প্রকল্প বিষয়ে কিছু তথ্য নেওয়ার জন্য অফিসে আসি। নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের এর রুমের সামনে আসার দুই-তিন মিনেটের মধ্যেই তিনি রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে লক্ষ করলাম সিকিউরিটিদের লাঠি নিয়ে আসার জন্য তিনি ইশারা করছেন। মুহূর্তের মধ্যেই তারা লাঠি নিয়ে এসে আমার ওপর হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের নির্দেশে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন, উপসহকারী কর্মকর্তা তন্ময় কুমার, সিকিউরিটি গার্ড প্রধান শহিদুল ইসলামসহ অফিসের ১০ থেকে ১৫ জন এ হামলায় যোগ দেয়। তারা আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি চড়, কিল, ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় আমার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয় তারা।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

সাতক্ষীরায় চলমান প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের জন্য সকালে ঢাকা থেকে একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা আমার অফিসে আসেন। উনাকে সাথে নিয়ে আমরা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের জন্য বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এসময় আমার অফিসের পিওন আমাকে জানায় যে, একজন সাংবাদিক এসেছেন আমার সাথে কথা বলার জন্য। অফিসে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা থাকায় সাংবাদিকের সাথে কথা বলার জন্য আমি দরজা খুলে রুমের বাইরে আসি। এসময় সাংবাদিক সাহেব কিছু না বলেই মোবাইলে ভিডিও করা শুরু করেন এবং লাইভে এসে বলতে থাকেন “আমি বেতনা নদীর খনন কাজ সর্ম্পকে তথ্য নিতে দেখা করতে এসেছি। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী আমার সাথে দেখা করতে চাইছেন না”। এসময় তিনি আমার অফিসের কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে একটি বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেন। এটি সম্পূর্ন একটি ভুলবোঝাবুঝি ছাড়া আর কিছু নয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, কাজ না পাওয়া পাউবো’র কিছু ঠিকাদার এই ঘটনাকে পুজি করে সাংবাদিকদের উস্কে দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছে।

এদিকে ইয়ারব হোসেনকে মারপিট করার প্রতিবাদে বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শহরের ইটাগাছাস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে সাতক্ষীরা-কলিগঞ্জ সড়কে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকরা।

মানববন্ধন থেকে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়েরকে দ্রুত অপসারন ও মারপিটের ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তদমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি, রেজাউল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন, বেলাল হোসাইন, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস.এম নজরুল ইসলাম, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্চু, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় ছাত্র সমাজ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আকরাম হোসেন খান বাপ্পি, গণফোরামের সাতক্ষীরা সভাপতি আলী নুর খান বাবুল প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে আগামী সাতদিনের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী আবুল খায়েরকে অপসারণসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া ৭২ ঘন্টা পর থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই মিনাজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা