• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

আজকের সাতক্ষীরা

তালার দরিদ্র জেলে কন্যা মারুফা ভর্তি হলো সাতক্ষীরা মেডিকেলে

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২২  

সাতক্ষীরারা তালা সদরের সেই জেলে কন্যা মারুফা খাতুন অবশেষে ভর্তি হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে। গতকাল রবিবার দুপুর ১টার দিকে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তার। এখন আনন্দের যেন সীমা নেই এই দরিদ্র পরিবারটিতে।

মারুফা খাতুন তালা সদরের জেয়ালানলতা গ্রামের নিকারীপাড়ার মৎস্যজীবী আজিত বিশ্বাস ও গৃহিনী তাছলিমা বেগমের বড় মেয়ে। ২০১৯ সালে তালার শহিদ আলী আহম্মদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০২১ সালে তালা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন মারুফা। এসএসসি ও এইচএসতিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ৭৪ স্কোর নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় মারুফা। তবে সুযোগ পেলেও পারিবারিক দারিদ্রতায় ভর্তি হওয়া নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। ঘটনাটি নিয়ে সকল গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আলোচিত হয় ঘটনাটি। মারুফার পাশে দাঁড়ান সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির, সাতক্ষীরা র‌্যাব কমান্ডার ইশতিয়াক হুসাইনসহ বিভিন্ন হৃদয়বান মানুষ। এছাড়া নাভানা গ্র“পের পক্ষ থেকে মারুফাকে এক লাখ টাকা সহায়তা করা হয়।

 সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মারুফা খাতুন বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল আমি একজন ডাক্তার হবো। তবে গরীব বাবার মেডিকেলে ভর্তির টাকাও ছিল না। এটা সবাই জানার পর র‌্যাব, নাভানা গ্র“প, জেলা প্রশাসক স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন সহযোগিতা করেছেন। আজ জেলা প্রশাসক স্যারের দেওয়া ২০ হাজার টাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছি। যারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া চাই, আমি যেন মানবিক ডাক্তার হয়ে সকলকে সেবা করতে পারি।

 তালা সদরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম নজরুল ইসলাম জানান, হতদরিদ্র পরিবারের মারুফা খাতুন নিজের চেষ্টায় সে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। বাবা কখনো কোন প্রাইভেট পড়াতে পারেনি। ভর্তি হওয়ার টাকা পর্যন্ত ছিল না। সাংবাদিকদের লেখালেখির কারণে র‌্যাব-৬, নাভানা গ্র“প ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মারুফার পাশে দাঁড়িয়েছে। সাংবাদিকদের এই ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, সমাজে আরও এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা সামনে আসতে পারে না। সাংবাদিকদের কাছে আহŸান জানাবো সেই সব ঘটনাও এমনিভাবে সামনে এনে প্রচার করার জন্য। তবে অবহেলিত ও দরিদ্র পরিবারগুলো খুব উপকৃত হবে।

মারুফার বাবা অজিত বিশ্বাস বলেন, আমি নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাই। গরীব মানুষ। মেয়েকে ডাক্তারী পড়াবো তেমন সামর্থ আমার নেই। আপনাদের সহযোগিতায় এই পর্যন্ত আসতে পেরেছে। সবার কাছে মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করছি। যেন লেখাপড়া শেষ করে ডাক্তার হতে পারে।
সাতক্ষীরা মেডিকেলে কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা আসাফুর রহমান জানান, ভর্তির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১৯ হাজার ৯শ’ টাকা দিতে হয়েছে। গরীব পরিবারের মারুফা খাতুনের ভর্তিও সম্পন্ন হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেলে কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ রুহুল কুদ্দুস জানান, সকল শিক্ষার্থী আমাদের কাছে সমান। মারুফা নামের মেয়েটির দারিদ্রতা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় বেশ প্রচার হয়েছে। সেটিও আমরা জেনেছি। ইতোমধ্যে তার ভর্তি শেষ হয়েছে। তার দিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা