ব্রেকিং:
ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে কাল এসএসসির রুটিন প্রকাশ হতে পারে বিকেলে
  • সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৮

  • || ১৯ সফর ১৪৪৩

আজকের সাতক্ষীরা
সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে ২৮ সেপ্টেম্বর টিকা ক্যাম্পেইন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তারকাদের নিয়ে বিটিভির বর্ণিল আয়োজন শেখ হাসিনা শিশু পার্কের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু পদ্মা নদীতে আরেকটি টানেল নির্মাণ করা হবে বাড়তি ৫ বছর শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা দিতে পারে চীন

ভূমিদস্যুদের কবল থেকে হাজার বিঘা জমি দখলে নিয়েছে ভূমিহীনরা

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১  

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালিতে দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা ভূমিদস্যুদের হটিয়ে ১৩’শ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে থেকে কমপক্ষে এক হাজার বিঘা বিলান জমি ও মৎস্য ঘেরের দখল নিয়েছে স্থানীয় ভূমিহীনরা। খলিশাখালির বিস্তীর্ণ এসব জমি সরকারি সম্পত্তি উল্লেখ করে গত কয়েক যুগ ধরে তা বন্দোবস্তের দাবি করে আসছিল ভূমিহীনরা। শনিবার ভোররাতে খলিশাখালিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৫শ’ ভূমিহীন পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে ওই জমির দখল নেয়।

ভূমিহীনরা জানান, ১৯৪৭ সালের দিকে জমির সিএস মালিক ইশ্বরচন্দ্র ঘোষের ছেলে চন্ডীচরণ ঘোষ খলিশাখালির ৪৩৯.২০ একর (এক হাজার তিনশত বিশ বিঘা) জমি প্রজাদের জন্য ফেলে রেখে ভারতে চলে যায় এবং সেখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। ভারতে যাওয়ার পর চন্ডীচরণ ঘোষ আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে না আসায় আইনানুযায়ী সমস্ত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে চলে যায়। কিন্তু এসব তথ্য গোপন রেখে দেবহাটার শিমুলিয়া এলাকার কাজী গোলাম ওয়ারেশের বাবা মালেক কাজী গং তার বাড়িতে বসে একাধিক জাল কাগজপত্র প্রণয়ন করে এবং তৎকালীন ভূমি জরিপ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে ব্যক্তি বিশেষের নামে এসএ রেকর্ড করিয়ে নেন এবং বিভিন্ন সময়ে আদালতে মামলা মোকদ্দমা চালিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা রেখে ভাগাভাগি করে ভোগদখল করতে থাকেন। পরবর্তীদের তাদের উত্তরসূরী মিলিয়ে ১-২’শ ব্যাক্তি খলিশাখালির ওই বিস্তীর্ণ সম্পত্তিতে চিংড়ী ঘের করে আসছিল।

বিগত ২০১৭ সালে পারুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী সুধীন কুমার সরকার তার এক লিখিত প্রতিবেদনে খলিশাখালির অবৈধ দখলদার হিসেবে সাতক্ষীরার কামালনগরের শামছুর রহমানের ছেলে বশির আহম্মদ (৮০ বিঘা), দেবহাটার শিমুলিয়ার আব্দুল মালেক ওরফে মালেক কাজীর দুই ছেলে কাজী গোলাম ওয়ারেশ ও কাজী আব্দুর রফিক (৩শ’ বিঘা), তার তিন মেয়ে কামরুন্নাহার, বদরুন্নাহার ও আদরুন্নাহার (১৫০বিঘা), সখিপুরের আব্দুল করিমের ছেলে আইডিয়ালের পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মিনহাজ উদ্দীন কারিকরের ছেলে আব্দুল মজিদ (১২০ বিঘা), সখিপুরের হাজী কেয়ামদ্দীনের ছেলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ওরফে সালামতুল্যাহ গাজী (১২০ বিঘা), একই গ্রামের আব্দুল মজিদ, আব্দুল আজিজ এবং আব্দুল গফফার (৪০ বিঘা), সখিপুরের ফজর আলী গাজীর ছেলে আনছার আলী ও মোকছেদ আলী (৪০ বিঘা), মান্দার বকস এর ছেলে আব্দুল জব্বার (৪০ বিঘা), আবুহারের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০ বিঘা), শিমুলিয়ার হায়াত আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান গাজী (১০০ বিঘা), পারুলিয়ার বাদশা মল্লিকের ছেলে ফরিদ হোসেন (২৪ বিঘা), খলিশাখালির মতিয়ার সরদারের ছেলে মোকছেদ সরদার (২০ বিঘা), গাজীরহাটের আনছার আলী আমিন’র ছেলে আব্দুল মজিদ (২০ বিঘা), সখিপুরের রাজাউল্লাহ সরদারের তিন ছেলে শফিকুল, এবাদুল ও আলম (৪০ বিঘা), পারুলিয়া সেকেন্দ্রার নেছার আলীর তিন ছেলে মৃত জামাত আলী, আমানাত আলী, জাহান আলী, ভাদড়ার আজিম সরদার ওরফে আজিজুর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল দারোগা (৯০ বিঘা), খেজুর বাড়িয়ার খলিলুর রহমান মিস্ত্রির ছেলে আনারুল ইসলাম (৯ বিঘা), সখিপুরের মৃত রহমতুল্যাহ গাজীর ছেলে আব্দুস সালেক (১৫ বিঘা), খলিশাখালির হাজের সরদারের ছেলে বাবু (১০ বিঘা), একই গ্রামের জামাত আলীর ছেলে নুর ইসলাম (১০ বিঘা), বাছতুল্যাহ মোড়লের ছেলে আব্দুর রহিম মোড়ল (৫ বিঘা), আছিমদ্দিন গাজীর ছেলে বাবু ও খোকন (১০ বিঘা) এবং সিরাজুলের ছেলে খোকন (৫ বিঘা) জমি ভোগদখল করছে বলে উল্লেখ করেন।

ইতিপূর্বে উক্ত সমূদয় সম্পত্তি সরকারি খাস জমি উল্লেখ করে সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট গাজী লূৎফর রহমানসহ দুই আইনজীবিকে রিসিভার দেন আদালত। পরে এসব অবৈধ দখলদাররা রিসিভার বাতিলের জন্য দৌঁড়ঝাপ শুরু করলে উচ্চ আদালত রিসিভার আদেশ স্থগিতসহ নালিশী জমির নেচার এন্ড ফেচার এবং দখলের ওপর স্ট্যাটাসকো আদেশ দেন। একইসাথে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও ভূমি মন্ত্রনালয়কে নালিশী ৪৩৯.২০ শতক জমি আইনানুসারে কন্ট্রোল ও ম্যানেজমেন্টের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।

অপরদিকে সরকারি ওই সম্পত্তি প্রাপ্তির জন্য সিভিলে মামলা করে ভূমিহীনরা শনিবার ভোররাতে এক হাজার বিঘা বিলান জমি ও মৎস্য ঘের শান্তিপূর্নভাবে দখলে নেন।

ভূমিহীনরা বলেন, সরকারি খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের বন্টনে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। গেল বছর সাপমারা খাল পুনঃখননকালে খালে দু’পাড়ের শতশত পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। তাদের মাথা গোজার কোন ঠাই ছিলনা। অথচ হাজার বিঘা সরকারি জমি জাল জালিয়াতি করে যেসব প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা ভোগদখল করে আসছিল, তারা অধিকাংশই কোটিপতি বা লাখপতি। সেজন্য ওইসব ভূমিদস্যুদের উৎখাত করে প্রকৃত ভূমিহীনরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেগুলো দখলে নিয়েছেন।

তারা আরো বলেন, জমি দখলের পর থেকে পূর্বের অবৈধ দখলদার ভূমিদস্যুরা তাদেরকে হটাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শনিবার সন্ধ্যা দিকে ভূমিদস্যুরা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কয়েক দফা ভূমিহীনদের উপর হামলা, মামলারও হুমকি দেয়। সেজন্য ভূমিহীনরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

এদিকে জমি দখলের বিষয়ে পূর্বের দখলে থাকা প্রভাবশালীদের পক্ষে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, জমির মালিকানার স্বপক্ষের যাবতীয় কাগজপত্র আমাদের রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মৎস্য ঘের করে আসছিলাম। এরই মধ্যে জোরপূর্বক ভূমিহীনরা রাতের আধারে তাদের মৎস্য ঘেরসহ যাবতীয় জমিজমা দখল করে নিয়েছে। আমরা এবিষয়ে আইনী পদক্ষেপ নিব।

এব্যাপারে দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, খলিশাখালিসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে। যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সার্বিক বিষয় মনিটরিং করা হচ্ছে। তাছাড়া উভয় পক্ষকে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা