• রোববার   ০৩ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৯ ১৪২৯

  • || ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের সাতক্ষীরা

১ জুন থেকে ৩ মাস সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক নিষিদ্ধ

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২২  

আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের নদী-খালে সকল প্রজাতির মাছ আহরণ ও বনের অভ্যন্তরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বনবিভাগ।

শনিবার (২৮ মে) এ তথ্য জানান, পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।

তিনি জানান, সুন্দরবনের অভ্যয়ারণ্যে এ সময়টা মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই তিন মাস সুন্দরবনের জেলেদের মাছ শিকারের পাস-পারমিটও বন্ধ থাকবে। যাতে কেশিকারের আশায় বনে প্রবেশ করতে না পারেন। তারপরও কেই এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময়টাজুড়ে বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরো বনজুড়ে অভিযান ও সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, মাছের প্রজনন বৃদ্ধি করা। এ মৌসুমে কোনো মাছ আহরণ করা যাবে না। ফলে
সুন্দরবনের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের যাতায়াতও বন্ধ থাকবে। কারণ, মাছের এ প্রজনন মৌসুমে বনের অভ্যন্তরের নদী-খালে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল করলে তাতে প্রজনন কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে।

বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের বিশাল মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ২০১৯ সাল থেকে বনবিভাগ প্রতি বছরই ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পুরো বনের নদী-খালে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ রেখে আসছেন।

প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এ তিন মাস মাছের প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের নদী, খাল ও বিলে থাকা বেশির ভাগ মাছের ডিম থেকে জন্মায় বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ফলে এ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সুন্দরবনের নদী-খালে যেমন মাছ বৃদ্ধি পাবে, তেমনি অন্যান্য প্রাণী, উদ্ভিদসহ জীববৈচিত্রের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছেন বনবিভাগ।

এ বিষয়ে বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্লানেলের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে বনবিভাগ প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ রেখে আসছেন। এ তিন মাস সমগ্র সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধের পাশাপাশি পর্যটকদের প্রবেশও বন্ধ থাকবে। এতে নিঃসন্দেহে পূর্বের তুলনায় সুন্দরবনে মাছের প্রজনন ও পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। যা সরকারের রাজস্ব আদায়েও বিশাল ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বেলায়েত হোসেন।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা