• রোববার   ০৩ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৯ ১৪২৯

  • || ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের সাতক্ষীরা

বাংলাদেশের কাছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব রাশিয়ার

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২২  

রাশিয়া বাংলাদেশের কাছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু)। আজ সোমবার (২৩ মে) বিদ্যুৎ ভবনে বিপিএমআই আয়োজিত ‘বিদ্যুৎ খাতে সাইবার নিরাপত্তা-নীতি এবং অপারেশনাল দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে তেল বিক্রির প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে ক্রুড অয়েলের কথা বলছে তারা। আমরা সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছি।

‘ভারতে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছে। বাংলাদেশে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না’সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার কোনো চিন্তা সরকারের নেই। ভারত যখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছিল, তখন আমরা বাড়াইনি।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কষ্ট হয় ও জীবনমানের ওপর প্রভাব পড়ে, সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তবে বিষয়টি বিইআরসির ওপর নির্ভর করে। বিরাজমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছি।

এছাড়া বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জনগণের ওপর থেকে জ্বালানি খরচের চাপ কমাতে তরল জ্বালানির পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন চালু করা উচিত। এখন বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলারগুলো চলছে। এগুলো জনগণকে খরচের ব্যাপারে স্বস্তি দিচ্ছে। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহন চালানোর উদ্যোগ নিতে হবে। রেল বিভাগ চাইলে বৈদ্যুতিক ট্রেনও চালু করতে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর আমাদের বেশ কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমরা বেশ কয়েকটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে পারব। এতে খরচ সাশ্রয় হবে।

চলমান ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সমস্যা এখন কেটে গেছে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো রাষ্ট্রীয় কেনাকাটায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার ছাড় দিতে বাধ্য। আমরা যে ব্যাংক থেকেই এলসি খুলতে চাই, বাংলাদেশ ব্যাংক সেই ব্যাংকের ডলারের যোগান দিতে বাধ্য। বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া আগে প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত, যার অর্ধেকের বেশি যেত ইউরোপে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা একের পর এক অবরোধ আরোপ শুরু করে রাশিয়ার ওপর।

এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়।

নিষেধাজ্ঞার মুখে অন্য ক্রেতারা রুশ তেল কেনা থেকে পিছু হটলেও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাপক মূল্য ছাড়ে তাৎক্ষণিক টেন্ডারের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে বাড়তি তেল কেনা শুরু করেছে।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা