• শুক্রবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৫ ১৪২৮

  • || ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আজকের সাতক্ষীরা

ফু দিলেই সোনা ‘দ্বিগুণ’, প্রতারণায় বিস্মিত পুলিশও!

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২২  

চট্টগ্রামে ‘ফু দিয়ে সোনা দ্বিগুণ’ করে দেওয়ার মতো অভিনব প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। বৃদ্ধাদের টার্গেট করে একটি চক্র এমন অভিনব প্রতারণা করে নিঃস্ব করে দিচ্ছে কিছু পরিবারকে। এমন একটি প্রতারণার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে চোঁখ উঠেছে পুলিশের। ৩২ ভরি সোনা নিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া বৃদ্ধার এক সন্তান পুলিশ সদস্য। সচেতন পরিবারের সদস্য প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনায় পুলিশকে বেশি বিস্মিত করেছে।

ফু দিয়ে সোনা দ্বিগুণ করার প্রতারণার ঘটনায় মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায়। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জেনেছে, এই চক্রটি পুরো মহানগরীতে ঘুরে ঘুরে প্রতারণা করে। বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় এক বৃদ্ধার সঙ্গে প্রতারণার আগে তাদের দেখা গেছে কোতোয়ালী থানা এলাকায়।

গত ১৭ ডিসেম্বর এমন প্রতারণার ঘটনার পর পুলিশ ২৬ দিন অনুসন্ধান চালিয়েও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতারক চক্রটিকে শণাক্ত করতে পারেনি। তবে এরই মধ্যে দ্বিতীয় প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। শেষ ঘটনায় ৩৫ ভরি গয়নাসহ বাড়ির মালামাল চুরিও করেছে প্রতারকচক্র। সেই চক্রটি শনাক্ত করে চোরকে নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। দুই ঘটনার মধ্যে একটির রহস্য উম্মোচন করা গেলেও প্রথমটির রহস্য এখনও উম্মোচন করতে পারেনি পুলিশ।

প্রথম দফা প্রতারণার বিষয়ে মামলা হয় গত ১৮ ডিসেম্বর। প্রতারণার শিকার মামলার বাদী রেনুরা বেগমের বয়স ৫৮ বছর। তিনি বলেন, আমি বায়েজিদ থানার গ্রীণভিউ আবাসিক সোসাইটি এলাকায় বাস করি। ১৭ ডিসেম্বর আমার বাসা থেকে মেয়ে শামীমা সুলতানাকে এগিয়ে দিতে বের হয়ে অক্সিজেন এলাকায় যাই। মেয়েকে এগিয়ে দিয়ে বাসায় ফেরার পথে এক ব্যক্তি আমাকে সালাম দেয়। আমি সালামের জবাব দিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে থাকি। এরই মধ্যে অপর একজন জিজ্ঞেস করে, আমি একটু আগে যে ব্যক্তি আমাকে সালাম দিয়েছে তাঁকে চিনি কি না? আমি না-সূচক জবাব দেওয়ার পর তারা আমার সঙ্গে নানা ধরনের কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে আমার পরিবারের তথ্যও জেনে নেয়। এরপর আমার সামনে ওই ব্যক্তি ফুঁ দিয়ে অপর একজনের সমস্যা সমাধান করে দেয়। সেই ব্যক্তি খুশি হয়ে কথিত হুজুরকে এক লাখ টাকা হাদিয়া দিলে হুজুর সেই টাকা গ্রহণ না করে মাটিতে ফেলে দেন। তখন ওই টাকার বান্ডিল মুহূর্তেই দুটি হয়ে যায়। এতে হাদিয়াদাতা ব্যক্তি খুশি হয়ে আমাকে বলে, আমি যেন বাসা থেকে গয়নাসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে আসি। তাহলে আমার সম্পদও দ্বিগুণ হবে।

তিনি আরো বলেন, ওই ব্যক্তির এমন কথা শুনে এবং টাকার বান্ডিল দুটি হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে সরল বিশ্বাস করি। সন্তানদের ভবিষ্যত উন্নতির আশায় বাসায় ফিরে আমার মেয়েদের প্রায় ৩২ ভরি গয়না নিয়ে ওই হুজুরের সামনে গিয়ে হাজির হই। তখন আমাকে ২০০ বার বিসমিল্লাহ বলতে বলতে পাশের বালুর স্তূপে পাথর আছে কি না দেখতে বলে। এই সময় বিসমিল্লাহ পড়তে পড়তে বালুর স্তূপে পাথর খুঁজি। কিন্তু সেখানে পাথর না পেয়ে পুনরায় তাদের কাছে ফিরে এসে দেখি, তারা নেই। তখন বুঝতে পারি, আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। এরপর বাসায় ফিরে সন্তানদের বিষয়টি খুলে বলি এবং থানায় গিয়ে মামলা করি। ৩২ ভরি সোনার পরিবর্তে ৬৪ ভরি সোনা পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অভিনব এ প্রতারণার তদন্ত শুরুর পর প্রতারকদের ছবি সংগ্রহ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘নগরীতে একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়েছে, তারা পীর সেজে কথিত মুরিদদের টার্গেট করে টাকা ও গয়না হাতিয়ে নেয়। বিশেষত, সকালে বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেওয়ার সময় বৃদ্ধা দেখলে তাদের টার্গেট করে চক্রটি। এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা বেশি হয় কোতোয়ালী ও চকবাজার এলাকায়। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশি হওয়ায় প্রতারকরা সেখানে বেশি সক্রিয়।’ রেনুরা বেগমের সঙ্গে যারা প্রতারণা করেছে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভির ফুজেট বিশ্লেষণ করে প্রতারকদের অবস্থায় কোতোয়ালী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় দেখা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

একই বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘কিছু মানুষ অতি লোভে পড়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ফু দিলেই সোনা কিংবা টাকা দ্বিগুণ হবে এমনটা বিশ্বাস করার কোনো অর্থ নেই। তারপরও চক্রটি বৃদ্ধাদের টার্গেট করে প্রতারণা করছে। চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তিনি বলেন, ‘অবস্থা সম্পন্ন পরিবারের সদস্যদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে, না হলে পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করা কঠিন হবে।’

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা