ব্রেকিং:
ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে কাল এসএসসির রুটিন প্রকাশ হতে পারে বিকেলে
  • সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৮

  • || ১৯ সফর ১৪৪৩

আজকের সাতক্ষীরা
সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে ২৮ সেপ্টেম্বর টিকা ক্যাম্পেইন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তারকাদের নিয়ে বিটিভির বর্ণিল আয়োজন শেখ হাসিনা শিশু পার্কের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু পদ্মা নদীতে আরেকটি টানেল নির্মাণ করা হবে বাড়তি ৫ বছর শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা দিতে পারে চীন

বঙ্গবন্ধুর কন্যা ছাড়া আমার তো জীবনীর আর কি আছে

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

নিশ্চয়ই রবীন্দ্রনাথ, নজরুল আর আমাদের মুক্তি সংগ্রামের বইও থাকত?
শেখ রেহানা: হ্যা, নজরুল-রবীন্দ্রনাথ আর নেতাজী সুভাষের বই বেশি পড়াতাম। কবিতা পড়াতাম। জীবনানন্দ দাশ ও সুকান্তের কবিতা পড়াতাম। বেগম রোকেয়ার বই আমি পড়ে পড়ে শোনাতাম। টিউলিপের মাস্টার্সের যে ডিসার্টেশন- সেটা রবীন্দ্রনাথের উপরে লেখা। যদিও সেটা ইংরেজিতে। রবীন্দ্রনাথের ‘নষ্টনীড়’ পড়ে আমার মেয়ে পাগল হয়েগিয়েছিল। আমি বাংলায় পড়তাম। ও সেটা ইংরেজি করত। এবং টিউলিপের যখন বিয়ে হয়- রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে আমি ‘আলো আমার আলো’ কবিতাটি পড়াই।

আমরা যতদূর জানি, বঙ্গবন্ধু কবিতা আবৃত্তি করতেন। সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রতি বঙ্গবন্ধুর গভীর আগ্রহ ছিল। সাহিত্যের প্রতি এই ভালবাসা তুমি কি বাবার কাছ থেকে পেয়েছ? নাকি মায়ের কাছ থেকে? কিংবা দুজনেরই প্রভাব রয়েছে?
শেখ রেহানা : মা প্রচুর বই পড়তেন। আর আব্বার কাছ থেকে তো অবশ্যই। আমি তো এ্যাডভান্স বাংলার ছাত্রী ছিলাম কলেজে। 

বেবী মওদুদ যখন বেঁচে ছিলেন তোমার একটা-দুইটা লেখা আমরা দেখতে পেতাম। তোমার নিশ্চয়ই লিখতে ইচ্ছে করে, এত কম লেখা দেখতে পাই কেন?
শেখ রেহানা : হ্যা, আমি লিখি কিন্তু ছাপানোর ইচ্ছেটা কম।

তোমার আত্মজীবনী লিখতে ইচ্ছে করে না?
শেখ রেহানা : বঙ্গবন্ধুর কন্যা ছাড়া আমার তো জীবনীর আর কি আছে?

কিন্তু তোমার দেখা পরিবারের যে ঘটনাগুলো- সেটাতো আমাদের ইতিহাস। এর একটা বিরাট মূল্য আছে। সেই দিক থেকে তোমার আত্মজীবনীও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ রেহানা : ‘অনেক ঘটনা আমি অল্প – অল্প করে লিখে রাখি। আর বেবী (মওদুদ) আপা জোর করে বসে থেকে লিখিয়ে নিত। বলত, আমি উঠব না। আর, অনেক সময় ঘটনা যখন দেখি মানুষ পেপারে মিথ্যা কথা লেখে, তখন আপাকে (শেখ হাসিনা) বলি- ‘আপা, এটাতো ডাহা মিথ্যা কথা।’ উনি বলেন, ‘ তুমি লিখো না কেন?’ আমি তখন লিখে রাখি- ঘটনা এটা না, ওটা। আমি তখন ছোট হলেও অনেক ঘটনার স্বাক্ষী। আর বঙ্গবন্ধুর কোনো গুণ না পেলেও স্মরণশক্তিটা এই বয়সে এসেও আল্লাহর রহমে খুব ভাল আছে। একবার যেটা দেখি বা শুনি সেটা আর ভুলি না। কিন্তু অনেক জিনিস চোখের দেখা- এখন মনে পড়ে- ঐ যে সাতই মার্চের ভাষণ- আমি, আপা, দুলাভাই, আমরা তো সামনে দাঁড়ানো ছিলাম। আব্বাতো কখনো ‘জয় পাকিস্তান’ বলে নাই। আব্বা নেমে যাওয়ার পরে আমরা বের হয়ে শহীদ মিনারের কাছে চলে আসলাম। স্পষ্ট মনে আছে। মানুষ যখন এই কথাগুলো বলে, সবাই না, কিছু লোক, তখন মনে হয় এই লোক এমন মিথ্যা কেন বলে? আব্বা বেঁচে নেই। যেই লোকটা বেঁচে নেই তার সম্পর্কে কেন মিথ্যা কথা বলছে? আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময়- ছোট হলেও দেখতাম, কিভাবে কি ঘটনা ঘটছে, জানতাম দাঁড়ি। অনেক সময় মা আলোচনা করতেন। তারপর ৬ দফার সময় খুব ছোট ছিলাম। বাড়িতে তো একটা রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল। তারপর তাজউদ্দিন চাচাকে নিয়ে কত ধরনের কথা, সত্য- মিথ্যা মিশিয়ে। আব্বা ও তাজউদ্দিন চাচার মধ্যে যে একটা সম্পর্ক ছিল যেই যাই লিখুক, তাদের সম্পর্ক আপন ভাইয়ের চেয়েও বেশি ছিল। আব্বা জেলে কেন- এই প্রশ্নটা মনে আসত। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করে, মানুষকে ভালবেসে- মায়ের মুখে দাদির মুখে শুনতাম। শুনতাম, কিন্তু মুখ বন্ধ রাখতে হবে। কারণ বাড়ির সামনে সবসময় আইবি’র লোক।’

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা