• রোববার   ০৩ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৯ ১৪২৯

  • || ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের সাতক্ষীরা

নতুন মরিচের ফলন দেড় গুণ বেশি, হেক্টরে ৩২ টন!

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২২  

প্রচলিত জাতের চেয়ে নতুন বিনা-২ মরিচের ফলন দেড় গুণ বেশি। উপযুক্ত পরিচযা পেলে এ জাতটি ২৯-৩২ টন/হে. ফলন (গ্রীণচিলি) দিতে সক্ষম। জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় প্রায় ১০০-১২০% বেশি ফলন দেয়।

জাতের বৈশিষ্ট্যঃ
উচ্চ ফলনশীল, প্রচলিত জাতের তুলনায় ফলন প্রায় ১.৫ গুণ বেশী। গাছ লম্বা, ঝোঁপালো এবং প্রচুর শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট হয়।ফল কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ এবং পাকা অবস্থায় আকর্ষনীয় লাল রংয়ের হয়ে থাকে। কাঁচা মরিচের ঝাল বেশি, ফল সুগন্ধিযুক্ত এবং ত্বক পুরু। প্রতি গাছে মরিচের সংখ্যা ১৫০-২০০ টি, ফলের দৈর্ঘ্য ১০-১৫ সে.মি. এবং প্রস্থ ৩-৪.৫ সে.মি.। কাঁচা মরিচ সংগ্রহের ৮-১০ দিন পযন্ত স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যবহার উপযোগী।  প্রথম মরিচ সংগ্রহের পর ফলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। জীবনকাল ১৮০-২১০ দিন, ফলন ২৯-৩২ টন/হে.

পড়তে পারেন: বাঘায় নতুন জাতের গম চাষ, বিঘায় ফলন হয়েছে ১৮ মণ

জমি ও মাটিঃ
বিনামরিচ-২ জাতটি চাষের জন্য জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ বেলে দো-আঁশ বা পলি দো-আঁশ মাটি চাষের জন্য উপযোগী। তবে স্বল্প মাত্রার অম্ল (পিএইচ ৬.০-৭.০) মাটিতে ফলন ভালো হয়।

জমি তৈরিঃ
তিন থেকে চারটি গভীর চাষ ও জমিতে শেষ চাষের আগে মই দিয়ে আগাছা পরিস্কার করে জমি তৈরী করতে হবে। মাটির ঢেলা ভেঙে মাটি ঝুরঝুর ও সমতল করে নিতে হবে। জমি তৈরিতে শেষ চাষের আগে জৈব এবং রাসায়নিক সার (ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি এবং জিপসাম) প্রয়োগ করতে হবে।

এছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশাপাশি দুটো বেডের মাঝখানে ৫০ সেমি. প্রশস্ত এবং ১০ সেমি.গভীরতা বিশিষ্ট নালা রেখে ১ মিটার চওড়া এবং ১০-১৫ সেমি. উঁচু বেড তৈরি করতে হবে। pH এর মান ৫.৮-৬.৫ এর চাইতে কম হলে মাটি বেশি অম্লিয় হয়ে যায় ফলে মরিচের ফলন কমে যাবে। এক্ষেত্রে প্রতি শতাংশ জমিতে ১-২ কেজি হারে চুন মিশিয়ে মাটির অম্লতা দূর করতে হবে।

বপনের সময়ঃ
বিনামরিচ-২ সারা বছর চাষ করা যায় তবে রবি মৌসুমে ফলন ভালো হয়। আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহ হতে কার্তিক মাসের মাসের মাঝামাঝি (মধ্য অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ)পযন্ত বীজতলায় বীজ বপন করতে হবে। কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ হতে শেষ সপ্তাহ (অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে মধ্য নভেম্বর) পযন্ত একমাস বয়সী চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। তবে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ হতে মধ্য ডিসেম্বর পযন্ত চারা রোপণ করা যায়।

বীজ হারঃ

বীজ হতে চারা তৈরী করে রোপন করলে প্রতি হেক্টরে ৫০০-৬০০ গ্রাম বীজ এবং বিঘাপ্রতি ৫০০০টি চারার প্রয়োজন হয়।চারা রোপনের ক্ষেত্রে ৩০-৩৫ দিন বয়সের সুস্থ চারা, সারি থেকে সারির দুরত্ব ৫০-৫৫সে.মি. ও চারা থেকে চারার দুরত্ব ৪০-৪৫সে.মি.হলে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

বীজ শোধনঃ
বপনের পূর্বে ছত্রানাশক দিয়ে বীজ শোধন করলে অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায় এবং স্বাস্থ্যবান চারা পাওয়া যায়।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা