• রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

  • || ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজকের সাতক্ষীরা

বাস্তুসংস্থান হারিয়ে বিপন্ন খুঁড়ুলে পেঁচা

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০২১  

পাখিদের পরম আশ্রয় গাছ। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি প্রায় প্রতিটি পাখি গাছকেই আশ্রয় করেই বেঁচে থাকে। মায়ের মতো, মায়ের পশমের উষ্ণ উত্তাপের মতো প্রতিটি গাছ-ই প্রতিটি পাখিদের পরম নির্ভরদাতা। পাখির খাদ্যসম্ভার, বিশ্রাম, প্রজনন সবকিছুই গাছকেন্দ্রিক। প্রকৃতিরাজ্যে প্রায় আশিভাগ পাখিরাই বৃক্ষের নির্ভরশীল। 

বর্তমানে মরা গাছ খুব একটা চোখেই পড়ে না। কেননা কোনও বড় গাছের মৃত্যু হলেই মানুষ তা কেটে নিয়ে যায়। তাতে বেঘর হয়ে পড়ে পাখিরা। অন্যত্র তাদের পাড়ি জমাতে হয়। তাতে হোমরেঞ্জ (নিজের এলাকা) হারাতে হয় তাদের। নতুন এলাকায় গিয়ে অন্য পাখিদের সঙ্গে করতে হয় লড়াই। সর্বোপরি হঠাৎ করে তারা তাদের জন্য উপযুক্ত খাবার মিলাতে পারে না। দিনের পর দিন এমন হতে হতে শেষাবধি পাখিদের কিছু প্রজাতি বিপন্ন হয়ে পড়ে।

এমন অনেক পাখি আছে, যারা বাসা তৈরি করে না। মূলত মরা গাছের গায়ে কোটর তৈরি করে জীবনকাল অতিবাহিত করে। জীবিত এবং মরা দুটো ধরণের গাছের কোটরেও একেকটি প্রজাতির একেক পাখিরা থাকে।

কিছু পাখিদের বসবাসের জন্য গাছের খুঁড়ুল বা কোটর খুবই প্রয়োজন। আর গাছই যেহেতু নেই, তাই খুঁড়ুল আসবে কোথা থেকে! খুঁড়ুল মানে গাছের গর্ত। যে পাখিটিকে কেন্দ্র করে এ ফিচার লেখা এই পাখিটি কোটর পরিবর্তনে এখন ঠাঁই নিয়েছে বাঁশের বেড়ায়! হায়রে!

বিশালাকৃতিময় প্রজাতির গাছগুলো যতই বয়োবৃদ্ধ হবে স্বাভাবিক নিয়মে তার শরীরের কোনো কোনো অংশে খুড়ল দেখা দেবে। আর এগুলোই প্রকৃতির মাঝে নানান প্রজাতির জীববৈচিত্র্যকে আশ্রয় দিয়ে গভীর উপকার সাধন করে চলে নীরবে। অনাদিকাল ধরে এমনটাই হয়ে এসেছে।

কিছু আগে বরেণ্য পাখি বিষয়ক লেখক শরীফ খান কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘গাছপালা যে হারে কাটা পড়ছে তাতে করে পাখি বা গাছকে কেন্দ্র করে বেঁচে থাকা প্রাণীদের জীবন গভীর সংকটের মুখে পড়বে। বিশেষ করে গাছকে নির্ভর করে বেঁচে থাকা পাখিগুলো।’

পাখিবিদ শরীফ খানের এই মূল্যবান কথাটি চিরসত্য রূপে আজ আমাদের চোখের সামনে প্রকাশিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শরীফ খান বলেন, ‘এর মানেই হচ্ছে ওর অস্তিত্ব সংকটে। প্রাচীন বৃক্ষগুলো কেটে ফেলার কারণে পেঁচাসহ নানার প্রজাতির পাখিরা আজ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে।’ সবদিকেই যেনো আজ বৃক্ষের ধ্বংসযজ্ঞ! এক বিকেলে এখানে দেখা গেল খুঁড়লহীন খুঁড়ুলে পেঁচাকে। এক সময়ের বিশালাকৃতির পুরাতন গাছগুলোতে খুঁড়ল থাকলেও বর্তমানে নতুন গাছগুলোতে তা নেই। এর ফলেই খুঁড়লহীন/কোটরহীন হয়ে বাস্তুসংস্থানহীন পড়েছে খুঁড়ুলে পেঁচা।

এখন তার স্বভাবগত আচরণ ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বাস্তুসংস্থানের অভাব তার আচরণে প্রভাব ফেলেছে। স্বাভাবিক নিয়মে তার বিকেলের দিকে বেরুবার কথা নয়। এরা নিশাচর প্রাণী বলে সন্ধ্যার সাথে সাথে গর্ত থেকে বেরুয়। কিন্তু বেলা চারটার দিকেই সে বের হয়ে পড়েছে। এখন ওরা শালিক, বুলবুলি পাখির মতো এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

খুঁড়ুলে পেঁচা (Athene brama) এর ইংরেজি নাম Spotted Owlet এবং বৈজ্ঞানিক নাম Athene brama। সাধারণত গাছের কোটরে বা খোঁড়লে এরা বাসা করে বলেই এদের এমন নাম। এরা স্ট্রিগিডি (Strigidae) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত ক্ষুদ্রকায় এক প্রজাতির পেঁচা। আকারে এরা প্রায় ২১ সেন্টিমিটার। দেহের রঙ বাদামি। সারা দেহে সাদাটে ফুটকি। এদের গলায় সাদা মালার মতো বৃত্তকার অবরণ রয়েছে। জোড়ালো এবং কর্কশ গলায় ডাকে।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা