• বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১২ ১৪৩১

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

আজকের সাতক্ষীরা

ভোমরা স্থলবন্দরে ১৫ দিন ধরে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে নির্যাতন, আটক ১

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে এক ব্যবসায়ীকে ১৫ দিন আটকে রেখে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই ব্যবসায়ীকে ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাকসুদ খানের অফিস কক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ক টিম। 

এ সময় ওই ব্যবসায়ীর শরীরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন দেখা যায়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাঈদ মোহাম্মদ সাদাত চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ গ্রামের মৃত সামশুল আলম চৌধুরীর ছেলে। 

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার এএসএম মাহফুজুর রহমানের ছেলে ও ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট  অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাকসুদ খান।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী ফারহানা রেজা জানান, গত এক সেপ্টেম্বর ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে কথা বলতে আমার স্বামী ভোমরা বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাকসুদ খানের অফিসে যান। সেখান থেকেই আমার স্বামীকে তার অফিসের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। তার ফোনটিও কেড়ে নেয় মাকসুদ খানের ম্যানেজার মহসিন হোসেন। 

কী কারণে আটকে রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ঈদুল আজহার সময় আমার স্বামী মাকসুদ খানের কাছ থেকে বাকিতে ২ ট্রাক পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচ নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের খাতুনগঞ্জ হামিদউল্লাহ মার্কেটে বিক্রি করে। তবে ক্রয়মূল্য থেকে বিক্রয় মূল্য অনেক কম হওয়ায় তার সব টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। 

তিনি বলেন, পরবর্তীতে মাকসুদ খানসহ কয়েকজন আমাদের এখানে আসেন এবং সবকিছু দেখে শুনে চলে যান। এরপর থেকে আমার স্বামীর সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। লোকসানের টাকা ব্যবসা করে কিভাবে পরিশোধ করা যায় সেজন্য গত এক সেপ্টেম্বর মাসুদ খানের সঙ্গে পরামর্শ করতে আমার স্বামী দেখা করতে যায়। সেখান থেকেই আমার স্বামীকে মাকসুদ খান অফিসের একটি কক্ষে আটকে রাখে। 

ফারহানা রেজা বলেন, আমার স্বামীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ সবকিছু তারা নিয়ে নেয়। দিনের মধ্যে কিছু সময় আমার সঙ্গে কথা বলতে দেয়। অন্য কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ দেয় না। মাকসুদ খান সাতক্ষীরাতে না থাকায় সে এলে সমাধান হবে বলে তার ম্যানেজার মহসিন হোসেন আমার স্বামীকে জানায়। 

তিনি বলেন, দুইদিন আগে মাকসুদ খান অফিসে আসেন এবং আমার স্বামীকে অমানুসিক নির্যাতন করেন। আমি পুলিশকে ফোন দিতে চাইলে আমার স্বামী আমাকে নিষেধ করেন। তিনি আমাকে বলেন, পুলিশ আসার খবর শুনলে তারা আমাকে আরও নির্যাতন করবে। পুলিশ আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না। এ কারণে আমরা পুলিশকে জানায়নি। আজ সন্ধ্যায় জানতে পারলাম পুলিশ আমার স্বামীকে উদ্ধার করেছে। 

ভোমরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাকসুদ খানের অফিসে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রাখে নির্যাতন করা হয়েছে এমন গুঞ্জন শুনে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক শুক্রবার বিকেলে সেখানে গিয়ে ঘটনা সত্যতা পায়। এরপর খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ এসে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যায়। 

এদিকে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় গিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মাকসুদ খানের ম্যানেজার মহসিন হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ী সাঈদ মোহাম্মদ সাদাতকে উদ্ধার করে থানার দ্বিতীয় তলায় রাখা হয়েছে। 

এদিকে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে মাকসুদ খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম জানান, জরুরি কাজে তিনি বাইরে রয়েছেন। থানাতে এসে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন। 

ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কারো সাক্ষাতের সুযোগ নেই। 

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা