• সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৬ ১৪২৭

  • || ০৩ সফর ১৪৪২

আজকের সাতক্ষীরা
৪৬

স্প্লিন্টারের যন্ত্রণায় জীবন দুর্বিষহ মাহাবুবার

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২০  

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় শরীরে এখনো স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে থাকা ঢাকা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেত্রী সাভারের মাহাবুবা পারভীন চলাফেরা করেন অন্যের সহযোগিতায়।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে অপারেশনে মাত্র তিনটি স্প্লিন্টার বের করা হয়েছে তার শরীর থেকে। মাথার মধ্যেও রয়েছে কয়েকটি স্প্লিন্টার।

‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৬ বছর হয়ে গেছে কিন্তু শরীরে গ্রেনেডের ক্ষত বহন করে চলছি। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করি। বিভীষিকাময় সেই দিনটির কথা মনে পড়লে ঘুমের ঘরে মাঝেমধ্যেই আঁতকে ওঠি। আইভি আপা মরে বেঁচে গেছেন, আর আমি বেঁচেও মরে আছি। এখন আমি অর্ধমৃত একটা আহত মানুষ। কথাগুলো কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছিলেন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মাহাবুবা পারভীন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপার ভালোবাসা পেয়েছি। তিনি দুই বার ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন এবং প্রতি মাসে চিকিত্সার জন্য ১০ হাজার করে টাকা দিচ্ছেন।

মাহাবুবা পারভীন জানান, আহত অবস্থায় তাকে শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয় ভারতের কলকাতায় অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতালে। সেখানে তাকে প্রায় ২৫ দিন চিকিত্সা দেওয়া হয়। শরীর ফিট না থাকার কারণে আরো ছয় মাস পরে গিয়ে স্প্লিন্টার বের করা এবং ব্রেনের চিকিত্সার জন্য সম্ভব হলে ব্যাংকক যেতে পরামর্শ দেন সেখানকার বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।

চার ভাই বোনের মধ্যে মাহাবুবা ৪র্থ। শরীরে ক্ষত নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন তিনি। পাশাপাশি আর্থিক অভাব-অনটনের মধ্যে নিজের চিকিত্সাব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। মাহাবুবা পারভীনের দুই ছেলে আসিফ পারভেজ ও রুশাদ জোবায়ের। তার প্রয়াত স্বামী এম এ মাসুদ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট ছিলেন।

মাহাবুবা পারভীন বলেন, গ্রেনেড হামলার ১৬ বছর হয়ে গেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া সাভারের কেউ তাকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করেনি। নেতাকর্মীরা এখন আর তার খোঁজখবর নেন না। জীবনের অনেক অপূর্ণতা থাকলেও মাহাবুবা পারভীনের একটিই চাওয়া; জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে বেঁচে থাকা।

 

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা
নগর জুড়ে বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর