• শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৯ ১৪২৭

  • || ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আজকের সাতক্ষীরা

শাহেদের গ্রেপ্তার ও বিচার চান তার জন্মস্থান সাতক্ষীরার মানুষ

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০  

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদের দুনীর্তির গল্পে বিস্মিত তার জন্মস্থান সাতক্ষীরার মানুষ। এক সময়ের সাতক্ষীরার আওয়ামী লীগ নেত্রী শাফিয়া করিমের একমাত্র সন্তান তিনি। স্থানীয়রা বলছেন, পেশাদার এ প্রতারক একদশক আগে পৈত্রিক সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে ঢাকায় বসতি গড়ে তোলে। সার্টিফিকেট জালিয়াতি করা সাধারণ পরিবারের সন্তান কিভাবে রাজধানীতে গিয়ে লোক ঠকানোর ব্যবসায় নামে সে প্রশ্ন এখন সবার। 

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ সাতক্ষীরা এক সময়ের জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক শাফিয়া করিমের একমাত্র পুত্র। দেশ ভাগের সময় শাহেদ করিমের পূর্ব পুরুষরা ভারত থেকে বিনিময় সূত্রে সাতক্ষীরা শহরে বসতি স্থাপন করে। তার পিতার নাম সিরাজুল করিম। শহরের কামালনগর এলাকায় তার পৈত্রিক বাড়ি ছিল। শৈশবে শহরের আসমানি শিশু শিক্ষা নিকেতনে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে ৯০ দশকের মাঝামাঝিতে শাহেদ ঢাকায় চলে যায়। মাঝেমধ্যে সে সাতক্ষীরার পৈত্রিক বাড়িতে ঘুরতে আসতো। মা এর মৃত্যুর পর প্রায় এক দশক আগে শাহেদ তার পৈত্রিক বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান করিম সুপার মার্কেট বিক্রি করে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। রাজধানীতে গিয়ে ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভয়ংকর এক প্রতারকে।

 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাছুম বলেন, শাহেদ সাতক্ষীরা হতে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজেকে পদধারী নেতার পরিচয় দেন। আমরা এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 
 
 ১/১১ সরকারের সময় এই শাহেদ দুই বছর জেলে ছিলেন বলে জানা গেছে। জেল থেকে বের হয়ে শাহেদ ২০১১ সালে ধানমন্ডির ১৫ নং রোডে এমএলএম কোম্পানি বিডিএস ক্লিক ওয়ান খুলে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। সেসময় তিনি নিজকে মেজর ইফতেখার করিম চৌধুরী বলে পরিচয় দিতেন। তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় ২টি মামলা, বরিশালে ১টি মামলা রয়েছে। বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস এ চাকরির নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার কারণে উত্তরা থানায় ৮টি মামলাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শাহেদ একটা ভণ্ড, প্রতারক। এক কথায় চিটার। এই প্রতারক সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ভারতে পালিয়েছিল। দুই বছর ভারতের বারাসাতে ছিল। 
 
এছাড়াও প্রতারণার টাকায় তিনি উত্তরা পশ্চিম থানার পাশে গড়ে তুলেছেন রিজেন্ট কলেজ ও ইউনিভার্সিটি, আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটি। এর একটিরও কোন বৈধ লাইসেন্স নেই বলে জানা গেছে। আর অনুমোদনহীন আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটির ১২টি শাখা করে হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে এই শাহেদের বিরুদ্ধে।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা