• মঙ্গলবার   ২২ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৮ ১৪২৮

  • || ১২ জ্বিলকদ ১৪৪২

আজকের সাতক্ষীরা

কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকতে লাগে না অনুমতি

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২১  

সাতক্ষীরার কুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকতে লাগে না অনুমতি, মেলে সহজ সেবা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হওয়ায় চেয়ারম্যানের কক্ষে সব সময় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষে ভর্তি থাকে। প্রথাগতভাবে ঢুকতে অনুমতির প্রয়োজন হয় সাধারণ মানুষের। কিন্তু ব্যতিক্রম সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।

ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম। তার অফিস কক্ষে ঢুকতে লাগে না অনুমতি। এমকি তাকে স্যার বলে ডাকারও প্রয়োজন নেই। একজন স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবায় জনগণের কাছে তিনি নিজেই এগিয়ে যান। সরাসরি অভিযোগ শুনে থাকেন। বিভিন্ন বিষয়ে সত্যতা যাচাই করে উভয়ের মধ্যে সমাধান করেন তিনি। আর এতে ইতোমধ্যে তিনি জনগণের কাছে তার এমন আচরণের জন্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

সরজমিনে দেখা যায়, কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের রুমের দরজায় বোর্ডে লেখা “প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নাই।” রুমে ঢুকতেই অনুভব করা গেল শিতাপত নিয়ন্ত্রণ। তীব্র গরমে সেবা গ্রহিতাদের কষ্ট দুর করতে চেয়ারম্যানের রুমে লাগানো হয়েছে এসি। সেবা নিতে আসা মানুষের কষ্ট লাঘবে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এমাদুল ইসলাম ব্যাবসায়ীক কার্মকান্ডে তিনি দেশের বাহিরে অবস্থান করায় তার ভাই ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আছাদুল ইসলাম সকলের সম্মতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনিত হন। এরপর থেকে তিনি ইউনিয়নবাসির সেবা দিয়ে চলেছেন। তার এই ব্যতিক্রমী জনসেবাই প্রশংসিত। ওই উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।

কুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের রুমের সামনে সাইনবোর্ডে লেখা প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই। বিষয়টি দেখে অনেক ভালো লাগে। যে কোন সমস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসলে চেয়ারম্যান তা দ্রুত সমাধান করে দেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতে পেরে খুশি সব শ্রেণীর পেশার স্থানীয় জনগণ। তারা মনে করেন, এভাবে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারলে তা সবার জন্যই কল্যাণকর হবে।

কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি মজনুর রহমান বলেন, কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রশংসিত। জনপ্রতিনিধির সাথে সাধারণ মানুষ সরাসরি সমস্যার কথা বলতে না পারলে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু কুলিয়া পরিষদ থেকে জনগন সহজে সেবা পেয়ে খুশি। তাছাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থি স্বাভাবিক রাখতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম কাজ করছেন। পূর্বের দিনের তুলনায় বর্তমানে কুলিয়া ইউনিয়নে মাদকের ভয়াবহতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম জানান, জনগনের ভোটে জনপ্রতিনিধি হয়েছি। তাই জনগনের কাছে দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর সেই জায়গা থেকে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমি খেয়াল করেছি চেয়ারম্যানের রুম অনেক সুসজ্জিত ও সব সময় সেবাগ্রহীতা মানুষে পরিপূর্ণ হওয়ায় অনেকে রুমে ঢুকতে ইতস্তত বোধ করে, ভয় পায়। অনেক সময় অনুমতির জন্য ঘোরাফেরা করে। এতে জনগণের সঙ্গে একটা দূরত্ব থেকে যায়। তাই দরজার বাহিরে ঐ সাইনবোর্ড দিয়েছি। যাতে দূরত্ব কমে আসে। মানুষ সঠিক সেবা নিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ও উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারে পরামর্শে ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিগত বছরের তুলনায় বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষ শান্তিতে বাড়িতে ঘুমাতে পারে। অঅমার ইউনিয়নের কোন মানুষ যাতে অন্যায় ভাবে হয়রানি না হয় সেজন্য সকল জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া আছে।

 

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা