• মঙ্গলবার   ০৭ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৩ ১৪২৭

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪১

আজকের সাতক্ষীরা
১৫

আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে আমাদের করণীয়

আজকের সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২০  

আল্লাহ তাআলার কোনো সৃষ্টি কষ্টে দিনাতিপাত করবে এটা তিনি পছন্দ করেন না। দিনের পর দিন আমরা নানান পাপ কাজ করি কিন্তু তাৎক্ষণিক তিনি আমাদের পাকড়াও করেন না বরং অবকাশ দিতে থাকেন। তিনি এজন্যই অবকাশ দেন যেন আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরে তাওবাহ করে সঠিক পথে চলার অঙ্গীকার করি।

বিশ্বময় করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষায় যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সব চেষ্টা-প্রচেষ্টা ব্যর্থ, সেখানে আমি বা আপনি কতটুকু চেষ্টা করেছি নিজেকে সংশোধন করতে? আমরা কি আমাদের দোষ-ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি?

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সবার উচিত হবে কুরআনের শিক্ষার ওপর আমল করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন পরিচালনা করা।

আসলে আল্লাহ তার বান্দাকে শাস্তি প্রদানে অবকাশ দিতে থাকেন। কারণ আল্লাহ তাআলা যদি সর্বপ্রকার শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করতেন তাহলে পৃথিবীর মানুষ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। পাপের কারণে মানুষ অকালে শেষ হয়ে গেলে জীবজন্তু ও পশুপাখি বেঁচে থাকারও কোনো প্রয়োজন হতো না।

মানুষের প্রয়োজনেই এদের সৃষ্টি। তাই মানুষের বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য জীবজন্তুও নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো। এক কথায় এ পৃথিবীই থাকতো না আল্লাহ হয়তো নতুন পৃথিবী এবং মানব সভ্যতাকে নতুন করে সৃষ্টি করতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘আল্লাহ যদি মানুষকে তার অন্যায় কাজের কারণে তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতেন তাহলে কোনো প্রাণীকেই তিনি এ পৃথিবীতে জীবিত ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মানুষকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। তবে তাদের শাস্তির নির্ধারিত মেয়াদ যখন এসে পড়ে তখন তারা এক মুহূর্ত পেছনেও থাকতে পারে না এবং সামনেও এগুতেও পারে না।’ (সুরা নাহল : আয়াত ৬১)

তবে কোনো জাতির শাস্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হয় তখন তা প্রতিহত, বিলম্বিত বা স্থগিত করা যায় না। শাস্তি যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়ে যায় তখন তাকে কেউ আর প্রতিহত করার শক্তি রাখে না। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘আর প্রত্যেক জাতির জন্য একটি সময় নির্ধারিত আছে। অতএব তাদের নির্ধারিত সময় যখন এসে যায় তখন তারা তা থেকে এক মুহূর্ত পিছিয়েও থাকতে পারে না বা এগুতেও পারে না।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৩৪)

এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দেন, তারপর যখন পাকড়াও করেন তখন আর কোনো ছাড় দেন না।’ (মুসলিম)

আল্লাহ আমাদেরকে অবকাশ দিচ্ছেন বলে আমরা যা ইচ্ছে তা করে যাব তা মোটেও ঠিক নয়। আমাদের উচিত সময় থাকতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।

শাস্তি থেকে রক্ষায় দোয়া-
জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষায় আমরা আল্লাহর কাছে সবিনয়ভাবে এ দোয়া পড়ব-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২০১)

অর্থ : ‘হে পরওয়ারদেগার! আমাদেরকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদেরকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা কর।’

এছাড়া আমাদের সব সময় দোয়া করা উচিত, আল্লাহ যেন আমাদেরকে ক্ষমা করেন। আল্লাহর ক্ষমা লাভে আমরা কুরআনের এ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতে পারি-
رَبَّنَا لاَ تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ - وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা লা তাঝআলনা ফিতনাতাল লিল ক্বাওমিজ জ্বালিমিন। ওয়া নাঝ্ঝিনা বিরাহ্মাতিকা মিনাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’ (সুরা ইউনুছ : আয়াত ৮৫-৮৬)
অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ওপর অত্যাচারি কওমের শক্তি পরীক্ষা করিও না। আর আমাদেরকে অবিশ্বাসী (জালিমদের) কবল থেকে অনুগ্রহ করে মুক্তি দাও।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম যে দোয়া সব সময় করতেন সেই দোয়াটিও আমরা প্রতিনিয়ত করব, যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করে তার দয়ার চাদরে আবৃত করে নেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এ দোয়া পড়তেন-
اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ .
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি, ওয়াল ফাকরি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাকে শারীরিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। হে আল্লাহ! আমার শ্রবণে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। আমার দৃষ্টিতে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। আপনি ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি কুফুরী ও দারিদ্র্য থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পানাহ চাই কবরের আজাব থেকে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

আসুন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির এ দিনগুলোতে আল্লাহ তাআলার কাছে নিজেদের পাপের জন্য তাওবা, ইসতেগফার করে ক্ষমা চাই। হে দয়াময় প্রভু! তুমি আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে তোমার সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করে নাও। আমিন।

আজকের সাতক্ষীরা
আজকের সাতক্ষীরা
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর